পৌনে তিনশ শতাংশ ঘৃণা ‘বাড়ছে’ ইলন মাস্কের টুইটারে

৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৭:১৩  
অক্টোবরের শেষে চার হাজার চারশ কোটি ডলারে টুইটার অধিগ্রহণ করেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। এর পর কোম্পানির আট হাজার কর্মীর প্রায় অর্ধেকই ছাঁটাই করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যপক হারে বাড়তে শুরু করেছে আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার। প্রতিবেদনের কেইস স্টাডি হিসেবে, ১৯ নভেম্বরের কলোরাডো স্প্রিংস হামলা নিয়ে ‘এলজিবিটিকিউ+ বিরোধী’ বিভিন্ন টুইট খুঁজে দেখেন গবেষকরা। ওই ঘটনায় এক ‘এলজিবিটিকিউ’ ক্লাবে পাঁচজন ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইট এর অনুসন্ধান বলছে, টুইটারে এখন গালি দেওয়া’ টুইটের গড় সম্পৃক্ততা বেড়েছে পৌনে তিনশ শতাংশ বেশি! প্রতিবেদন বলছে, মাস্কের অধিগ্রহনের দুই সপ্তাহ আগে, ‘নিগার’, ‘ট্রানসি’ বা ‘ফ্যাগট’ ব্যবহৃত টুইটের রিপ্লাই, রিটুইট ও লাইকের গড় সংখ্যা ছিল ১৩ দশমিক তিন। তবে, অধিগ্রহনের পর এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪৯-এ। সিসিডিএইচ এর এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাস্কের অধিগ্রহনের আগে ও পরে প্রতিদিনের গড় হিসাবে টুইটারে ‘নিগার’ শব্দের দৈনিক ব্যবহার বেড়েছে তিন গুণ; ‘কান্ট’ শব্দের দৈনিক ব্যবহার বেড়েছে ৩৩ শতাংশ; ‘ফ্যাগট’ শব্দটির ব্যবহার বেড়েছে ৫৮ শতাংশ এবং ‘ট্রানসি’ শব্দের ব্যবহার বেড়েছে ৬২ শতাংশ। যদিও কিছুদিন আগেই ইলন মাস্ক জানিয়েছিলেন, আগের চেয়ে টুইটারে এক-তৃতীয়াংশ ঘৃণাবাচক বক্তব্য কমেছে। এ দাবির কয়েকদিন পরেই শুক্রবার এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্কের অধিগ্রহণের তিন মাস আগে, গড় হিসাবে প্রতি মাসে দুই লাখ ২২ হাজার সাতশজন ফলোয়ার পেয়েছে এই ধরনের ভাষা সর্বাধিক ব্যবহার করা ১০টি অ্যাকাউন্ট। আর অধিগ্রহনের মাসে, ওই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয় লাখ ৪৪ হাজার দুইশ পাঁচজন ফলোয়ারে, যা আগের চেয়ে তিনশ ২০ শতাংশ বেশি। মাস্কের ‘সাধারণ ক্ষমার’ ঘোষণা সেইসব অ্যাকাউন্টকে প্ল্যাটফর্মটিতে ফেরার সুযোগ দেবে, যারা এর আগে টুইটারের নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এর মধ্যে আছে বিভিন্ন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী, নারীবিদ্বেষী ও চরম ডানপন্থী ষড়যন্ত্রতত্ত্ববাদীর অ্যাকাউন্ট। তবে ‘এই ধরনের ব্যবহারকারী ব্যপক হারে বৃদ্ধি পেলেও, প্ল্যাটফর্মে ঘৃণাবাচক বক্তব্যের ছাপ, ওই ধরনের টুইট দেখার সংখ্যা কমতে থাকবে’ প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেয়া টুইটে দাবি করেছেন মাস্ক। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টুইট ও শত শত কোটি মনোভাব প্রকাশিত হয়। এর ফলে, টুইটারে সামগ্রিকভাবে ঘৃণাবাচক বক্তব্যের মনোভাব দেখা যায় শূন্য দশমিক এক শতাংশেরও কম।”